রবিবার , নভেম্বর 1 2026
Breaking News

Tiger: বাঘিনীকে ফিরিয়ে আনতে আসামে বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও

রিপোর্ট : মলয় দেবনাথ , এই যুগ, অসম

Tiger: বাঘিনীকে ফিরিয়ে আনতে আসামে বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাওবক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প (Tiger) থেকে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে চলে যাওয়া বাঘিনীকে ঘিরে বড়সড় আপডেট দিলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও। শুক্রবার অসমে পৌঁছে জানান বাঘিনীকে উদ্ধারের পাশাপাশি পুনরায় বক্সার জঙ্গলে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।বনমন্ত্রী বলেন, পশুপাখির কোনও নির্দিষ্ট সীমানা হয় না। তাঁর কথায়, পশুপাখিদেরও নির্দিষ্ট কোনও সীমারেখা নেই। আমি যেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছি, সেটি অসম। অথচ এখান থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরেই পশ্চিমবঙ্গের শ্রীরামপুর। তাই বাঘিনী অসমে পালিয়ে গিয়েছে, এভাবে বলা ঠিক নয়।”বাঘিনীর এই গতিবিধিকে স্বাভাবিক আচরণ বলেই ব্যাখ্যা করেন বনমন্ত্রী। তাঁর মতে, নতুন জঙ্গলে ছাড়া হলে বাঘ প্রথমে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখে এবং পরবর্তীতে উপযুক্ত জায়গায় নিজের বসতি গড়ে তোলে। বক্সার বাঘিনী, যাকে ‘ডুয়ার্স রানি’ নাম দেওয়া হয়েছে, প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে।এ প্রসঙ্গে মহারাষ্ট্র থেকে ওড়িশার সিমলিপালে ছাড়া বাঘিনী জিনাতের উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি। জিনাত ওড়িশা থেকে ঝাড়খণ্ড হয়ে পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় পৌঁছেছিল। প্রায় ২৫০ কিলোমিটার ঘোরার পর তাকে ট্রাঙ্কুলাইজ করে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে সে সেখানেই বসতি গড়ে এবং সন্তানও জন্ম দেয়।বনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাঘিনীটি প্রায় ৩০-৩৫ হেক্টর এলাকার একটি বাঁশঝাড়ে রয়েছে। পাশেই রয়েছে জনবসতি, ফলে পরিস্থিতি যথেষ্ট সংবেদনশীল। গত ৮-১০ দিন ধরে সে জনবসতি এড়িয়ে চলেছে এবং গত দুদিন ধরে একই এলাকায় অবস্থান করছে। অসমের বন আধিকারিকদের তথ্য অনুযায়ী, রাইমোনা জঙ্গলে বর্তমানে পাঁচ থেকে ছয়টি বাঘ রয়েছে।অনুমতি পেলেই শুরু হবে উদ্ধার অভিযান ,সামনে দীপাবলি। বাজি ফাটানোর কারণে বাঘিনী লোকালয়ের দিকে চলে আসতে পারে, সেই আশঙ্কা থেকেই দুই রাজ্যের বন দফতর যৌথভাবে তাকে উদ্ধার করে পুনরায় বক্সার জঙ্গলে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।মন্ত্রী জানান, বাঘিনীকে ধরার অনুমতি চেয়ে পশ্চিমবঙ্গের বন দফতরের তরফে অসম সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অসম সরকারের তরফেও ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি বা NTCA-র কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন মিললেই অভিযান শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রীকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।অনুমতি পাওয়া গেলে পরের দিন থেকেই অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি রয়েছে। ট্রাঙ্কুলাইজ ও নেটিং-সহ একাধিক পদ্ধতি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বাঘিনীকে উদ্ধার করতে দু-তিন দিন সময় লাগতে পারে। প্রয়োজনে কিছুদিন এনক্লোজারে রেখে পরে তাকে বক্সার জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।